Home / স্বাস্থ্য কথা / অসুস্থ্য না থাকতে চাইলে বালিশ ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস করুন!!!

অসুস্থ্য না থাকতে চাইলে বালিশ ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস করুন!!!

ঘুমানোর সময় মাথা এবং শিরদাঁড়াকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই মূলত বালিশ ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষত নিদ্রাকালে যাতে শিরদাঁড়া টেরে-বেঁকে না থাকে, তা সুনিশ্চিত করতে ব্যবস্থা। তবে মজার বিষয় হল, যে মানুষের এক সময় মনে হয়েছিল ঘুমানোর সময় আরাম পেতে এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখতে বালিশের কোনও বিকল্প হয় না। এখন মনে হচ্ছে বালিশ যতটা না উপকারে লাগে, তার থেকে অনেক বেশি অপকার করে থাকে।

বাস্তববিক বালিশ ছাড়া শুলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে শোয়ার সময় শিরদাঁড়া ঠিক অবস্থানে থাকার কারণে ঘাড়, পিঠ এবং কোমরের একাধিক সমস্যার আশঙ্কা হ্রাস পায়। এখানেই শেষ নয়, বালিশ ছাড়া শুলে আরও অনেক উপকার মিলে থাকে। যেমন…

১. শিরদাঁড়া চাঙ্গা থাকে
আপনার কি মাঝে মধ্যেই পিঠে ব্যথা হয়ে থাকে ? তাহলে যত শীঘ্র সম্ভব বালিশ ছাড়া শোয়ার অভ্যাস করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ বালিশ ছাড়া শুলে শিরদাঁড়া স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে, ফলে চোট-আঘাত বা অন্য কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রসঙ্গত, খেয়াল করে দেখবেন বালিশে মাথা দিয়ে শুলে শিরদাঁড়ার একটা অংশ একেবারেই স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে পারে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঘাড়ে বা পিঠে যন্ত্রণা হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

২. ঘাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে
পরিসংখ্যানে দক্ষিণ এশিয়ার মোট জনসংখ্যার সিংহভাগই কাঁধ, ঘাড় অথবা পিঠের কোন না কোন রোগে ভুগছেন এবং রোগীদের বেশিরভাগেরই বয়স ২৫-৪০ এর মধ্যে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জানেন? এক্ষেত্রে দায়ী বালিশ। তাই তো চিকিৎসকেরা কম বয়স থাকতেই বালিশ ছাড়া ঘুমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ এমনটা করলে শোয়ার সময় ঘাড় এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে রক্ত সরবরাহ ঠিক মতো হওয়ার সুযোগ পায়। ফলে কম বয়সেই স্পন্ডেলাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

৩. মুখমণ্ডলের উন্নতি ঘটে
গবেষণায় দেখা গেছে, বালিশে মাথা দিয়ে ঘুমানোর সময় আমাদের মধ্যে অনেকেই উবু হয়ে, বালিশে মুখ গুঁজে শুতে ভালবাসেন। এমনভাবে দীর্ঘ সময় কেউ যদি ঘুমায়, তাহলে ত্বকে বলিরেখা প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সেই সঙ্গে কম বয়সেই ত্বকের সৌন্দর্য হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৪. বলিশে শুলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে
কিছু কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, বালিশ ছাড়া শুলে যতটা ভাল ঘুম হয়, বালিশ ব্যবহার করলে অতটা ভাল ঘুম হয় না। কী কারণে এমনটা হয়ে থাকে, তা যদিও এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে জানা যায়নি, তবে গবেষণা চলছে।

প্রশ্ন হল বালিশ ছাড়া শোয়ার অভ্যাস করবেন কীভাবে?

আমরা সবাই ছোট থেকে বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে এসেছি। তাই হঠাৎ করে বালিশ ব্যবহার বন্ধ করে দিলে ঘুম আসবে না । তাই ধীরে ধীরে বালিশের অভ্যাস ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম এক সপ্তাহ বালিশের পরিবর্তে একটা মোটা টাওয়াল ভাঁজ করে মাথায় দিন। যত দিন যেতে থাকবে, তত টাওয়ালের হাইট কমাতে হবে। দ্বিতীয় সপ্তাহে টাওয়ালটা একেবারে পাতলা করে দিন। এই সময় খেয়াল রাখবেন, শোয়ার সময় মাথাটা এমন পজিশনে রাখবেন, যাতে থুতনিটা নিচের দিকে থাকে, উপরের দিকে নয়। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যখন টাওয়ালের হাইট একেবারে কমিয়ে দেবেন, তখন মাঝে মাঝে ঘাড় এবং পিঠের কিছু ব্যায়াম করা শুরু করবেন। দেখবেন উপকার পাবেন।

Comments

comments

Check Also

থাইরয়েডের সমস্যা গর্ভাবস্থায় কি জটিলতা সৃষ্টি করে?

প্রশ্নঃ থাইরয়েডের অসুখ সারতে কতদিন লাগে? কী খেলে এই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা যাবে? ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *