Home / স্বাস্থ্য কথা / নাশপাতির উপকারিতা ও পুষ্টি গুণাগুণ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিন

নাশপাতির উপকারিতা ও পুষ্টি গুণাগুণ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিন

আমাদের খুব কাছের এবং অতি পরিচিত একটি ফল নাশপাতি। নাশপাতি আমরা অনেকেই খেতে ভালোবাসি। এর গুণাগুণ সম্পর্কে চলুন কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

চীনে ফুসফুসের চিকিৎসায় নাশপাতি ব্যবহৃত হয়। নাশপাতির জুস গলা পিচ্ছিল করে, কফ এবং ভাইরাল সংক্রমণ কমায়। অনেকেই মনে করেন, গ্রীষ্মে -প্রচণ্ড গরমে ফুসফুসে কফ জমে। ফলে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। নাশপাতিতে এ্যান্টিঅক্সিজেন গ্লোটাথায়ন থাকার কারণে এটি গলাকে পিচ্ছিল করে এ ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।এছাড়াও রাত জাগতে সাহায্য করে নাশপাতি ,পানীয় হিসেবে খেয়ে নিতে পারেন এক গ্লাস নাশপাতির জুস। সারা রাত না ঘুমালেও সকালে থাকবেন একেবারে চনমনে।

শুধু তাই নয়, নাশপাতিতে চর্বি এবং ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম এবং অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন, আঁশ, মিনারেল ও এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। ৪ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে নাশপাতি উৎপাদিত হলেও সম্প্রতি এর খাদ্যগুণ দৃষ্টি কেড়েছে সবার।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক নাশপাতি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী-

রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা কমায় : নাশপাতি রক্তে অ্যালকোহলের পরিমাণ কমায়। চলতি মাসের একটি গবেষণায় জানা গেছে যারা নাশপাতির জুস খায় তাদের স্মরণশক্তি ভালো থাকে এবং আলো কিংবা শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা কমে আসে।

ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই : চিকিৎসক ক্রিসটি বলেন, নাশপাতিতে বিদ্যমান পলিফেনল টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। পলিফেনল রক্তের শর্করার পরিমাণ কমায়। সপ্তাহে পাঁচবারের বেশি নাশপাতি খেলে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়ে। এটি চোখ, ত্বক এবং কিডনির সমস্যাও দূর করে।

গর্ভাবস্থায় উপকারী : নাশপাতিতে ফলিক এসিডসহ গর্ভাবস্থার জন্য অন্যান্য উপকারী পুষ্টিগুণ রয়েছে। প্রতিটি বড় নাশপাতিতে প্রায় ১৪ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট রয়েছে, যা ১১ বছরের অধিক বয়সীদের খাদ্যতালিকার প্রয়োজনীয় উপাদানের ২০০ গ্রাম এবং গর্ভবতী মায়েদের খাদ্যতালিকার প্রয়োজনীয় উপাদানের ৭০০ গ্রাম পূরণ করে। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ফলিক এসিডের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে নাশপাতিতে।মহিলাদের বিভিন্ন রোগ সহ মেনোপোজ পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা কাটাতে নাশপাতির জুড়ি নেই।

অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে : শিশুদের প্রায়ই প্রথম ফল হিসেবে নাশপাতি দেওয়া হয়। শুধু পুষ্টিগুণের জন্য নয়, এটি অ্যালার্জির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমায়। যারা প্রায়ই হালকা জ্বর এবং অ্যালার্জি সমস্যায় ভোগে তাদের জন্য নাশপাতি খুবই উপকারী।

হাড়ের ক্ষয়রোধ করে : উচ্চ মাত্রায় মিনারেল থাকার কারণে নাশপাতি দেহে ক্যালসিয়ামের যোগান দেয়। এটি হরমোন উৎপাদন এবং হাড়ের ক্ষয়রোধ করে। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানের ১০ শতাংশ নাশপাতিতে বিদ্যমান। এ ছাড়াও নাশপাতিতে আছে হাড়ের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ‘ভিটামিন কে’।

এছাড়াও দাঁতের মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নাশপাতির রস ও অল্প ফিটকিরি মিশিয়ে রেখে সকালে খেলে মাড়ির ক্ষয় পূরণ হয়।খুশকি ও মাথার চুল পড়ে গেলে নাশপাতির রস ১০-১৫ দিন খেলে চুল পড়া ও খুশকি দূর হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য তাড়াতে নাশপাতির জুড়ি নেই। বিকেলে বা রাতে খাওয়ার পর নাশপাতি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

এতগুণের নাশপাতিকে তাহলে আর দূরে রাখা কেনো? আজই যুক্ত করে নিন আপনার খাদ্য তালিকায়। সুস্থ্য থাকুন, ভালো থাকুন।

Comments

comments

Check Also

থাইরয়েডের সমস্যা গর্ভাবস্থায় কি জটিলতা সৃষ্টি করে?

প্রশ্নঃ থাইরয়েডের অসুখ সারতে কতদিন লাগে? কী খেলে এই রোগ থেকে মুক্তি লাভ করা যাবে? ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *