Home / স্বাস্থ্য কথা / ক্লান্তি দূর করতে যেসব খাবার ম্যাজিকের মত কাজ করে

ক্লান্তি দূর করতে যেসব খাবার ম্যাজিকের মত কাজ করে

অতিরিক্ত কাজে বা মানসিক চাপের ফলে অনেক সময় আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। ক্লান্তির ফলে আমাদের কাজে মনোযোগের ঘাটতি হয়। কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো নিয়মিত খেলে ক্লান্তিভাব অনেকটাই দূর হয়। খাবার আসলে আমাদের শরীরে জ্বালানির ভূমিকা পালন করে। এই জ্বালানি হিসেবে যা আমরা বাছাই করি, তা-ই আমাদের শরীরের কর্মদক্ষতার ওপর প্রভাব ফেলে।
ক্লান্তি থেকে আমরা মুক্তি পেতে সাধারণত হালকা স্নাক ফুড বা ভাজা পোড়া জাতীয় খাবার খেয়ে থাকি যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। তাই দ্রুত ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে খেতে পারেন প্রাকৃতিক কিছু খাদ্য। যা ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

যে খাবার ক্লান্তি দূর করে

মধু
মধুতে গুকোজ ও ফ্রুকটোজ আছে যা শরীরে শক্তি যোগায় এবং ক্লান্তি দূর করে । এর অন্যান্য উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ডার্ক চকোলেট
চকোলেট দ্রুত শক্তি বাড়ায় এবং মেজাজ ভালো করে। এর মধ্যে রয়েছে থিব্রোমিন ও ট্রিপটোফেন। মস্তিষ্কে ভালো অনুভূতির হরমোন তৈরির মাধ্যমে এটি মনকে শিথিল করতে সাহায্য করে।

দই
দই এ প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে যা এনার্জির ঘাটতি দূর করার সবচেয়ে জরুরি উপাদান। তাই প্রতিদিন ১ কাপ দই খান। ক্লান্তি আসবে না শরীরে।

জল
ক্লান্ত লাগলে জল পান করুন। পানি শরীরকে কর্মক্ষম রাখে। জল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে খাদ্য উপাদান পরিবহন করে। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ভারসাম্যহীনতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। তাই সুস্থতার জন্য জল একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।

চা বা কফি
শরীরকে চাঙা করতে ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় (যেমন: চা বা কফি) বিশেষ সহায়ক। এটি হৃৎযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়ায় এবং শরীরকে উদ্দীপ্ত রাখে। তবে চা বা কফি বেশি পান করলে রাত্রে নিদ্রাহীনতা দেখা দিতে পারে।

বাদাম
ক্লান্তি লাগলে এক মুঠো বাদাম খাওয়া দ্রুত শক্তি জোগাতে ভালোভাবে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, আঁশ, ভালো চর্বি, মিনারেল (যেমন : ম্যাগনেসিয়াম , ফোলেট) ইত্যাদি। শক্তি বাড়াতে এবং কোষ তৈরিতে বাদাম বেশ উপাকারী।

ডিম
ডিম এর মধ্যে রয়েছে প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় এমাইনো এসিড। এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি। এটি শক্তি বাড়াতে সহায়ক। ক্লান্তি দূর করতে ডিম খেতে পারেন।

ওটমিল
ওটমিলে কার্বোহাইড্রেট ছাড়াও প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি ১-এর মতো উপাদান থাকে যা শরীরের এনার্জির ঘাটতি হতে দেয় না। তাই সকালের নাস্তায় ওটমিলের সঙ্গে ফল মিশিয়ে খেয়ে নিন। এনার্জি পাবেন দিনভর।

কলা
প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম পাওয়া যায় কলায়। পটাসিয়াম শর্করাকে ভেঙে এনার্জির যোগান ঠিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। পাশাপাশি কলায় থাকা ভিটামিন বি, সি, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট দেহে পুষ্টির ঘাটতি হতে দেয় না। প্রতিদিন সকালে একটি কলা খাওয়ার চেষ্টা করুন।

কম পরিশ্রমেই যদি আপনার শরীর দুর্বল হয়ে যায় তবে বুঝতে হবে আপনার এনার্জির ঘাটতি রয়েছে। এনার্জির অভাবে কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং শরীর ঘনঘন ক্লান্ত লাগে। ক্লান্তি কমিয়ে দিনভর কর্মক্ষম থাকতে চাইলে দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন উপরে বর্ণিত খাবারগুলো।

Comments

comments

Check Also

শ্বেতী কী? কেন হয়? কী করবেন?

ত্বকের একটি অদ্ভুত রোগ হল শ্বেতী। তবে এটি মোটেই ভয়াবহ রোগ নয়! এটির সম্পর্কে অজ্ঞতার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *