Home / স্বাস্থ্য কথা / ডায়াবেটিসে কি খাবেন কি খাবেন না? জেনে নিন কাজে লাগবে

ডায়াবেটিসে কি খাবেন কি খাবেন না? জেনে নিন কাজে লাগবে

ডায়াবেটিস নির্দিষ্ট মাত্রার বাইরে গেলে তা শরীরের ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণে রাখাই সর্বোত্তম পস্থা। ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার গ্রহনে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার প্রধান উদ্দেশ্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও স্বাস্থ্য ভালো রাখা।

এর জন্য প্রয়োজন কঠোর নিয়মানুবর্তিতা। কিছু কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার আছে যে গুলি ডায়াবেটিস রোগীকে সুস্থ্য থাকতে সহায়তা করে। আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো ডায়াবেটিস প্রতিরোধও করে। আসুন এবার জেনে নেই ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকা কোন খাবার রাখবেন এবং কোন গুলি রাখবেন না।

ভাতের তুলনায় রুটির সুবিধা হলো এতে ডায়েটারি ফাইবার বেশি থাকে। রুটি দুবেলা হলে ভালো। রুটি খেতে কষ্ট হলে দুবেলা ভাত কিংবা একবেলা রুটি খাওয়া যাবে। খেয়াল রাখতে হবে ভাতের পরিমাণ যেন নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি না হয়।
প্রাণীজ চর্বির পরিমাণ কমিয়ে উদ্ভিজ চর্বির পরিমাণ বাড়ানো উচিত। উদ্ভিজ্জ তেল অর্থাৎ সয়াবিন, সরিষার তেল ইত্যাদি এবং সব ধরনের মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

সম্পৃক্ত চর্বি যেমন প্রাণীজ চর্বি, ঘি, মাখন, ডালডা ইত্যাদি খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে।
চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই বাদ দিতে হবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার (কেক, পেস্তি, জ্যাম, জেলি, মিষ্টি, ঘনীভূত দুধ, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিক, চায়ে চিনি ইত্যাদি) খাওয়া যাবেনা। ক্যালরিবহুল খাবার নির্দেশিত পরিমাণে খাওয়া।

খাদ্য তালিকায় ভাত, রুটি, মিষ্টি ফল ইত্যাদির পরিমান কমিয়ে ডাল, শাক, সবজি, টক জাতীয় ফল ইত্যাদি আঁশবহুল খাবার বেশী করে খেতে হবে।
রসালো ফলে শর্করার পরিমাণ বেশি এবং টক ফলে কম। আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, আঙ্গুর, তরমুজ, পেঁপে, আনারস এসব ফল সীমিত পরিমাণে খেতে হবে।

যেসব ফলে প্রচুর পরিমাণে শাঁস বা খাদ্য আঁশ আছে সেগুলো খাওয়া ভালো। আঁশ জাতীয় খাদ্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। আঁশযুক্ত খাদ্য যেমন তরিতরকারি, বরবটি, শিম, ঢেঁকি ছাঁটা চাল, গমের তৈরি রুটি, ফল-মূল গ্রহণ করলে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। এর সঙ্গে শরীরে ক্ষতিকর লিপিড এবং কলেস্টোরেলের মাত্রাও কমে যায়।

যেসব খাদ্য বা পানীয়তে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে সেসব বর্জন করতে হবে। প্যাকেটজাত ফলের রস বা কোমল পানীয় রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এগুলো খাওয়াতে সতর্কতা প্রয়োজন।
প্রতিদিন দু কাপের বেশি চা বা কফি খাওয়া উচিৎ নয়। বেশি ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়া যাবে না।

ভাত, আলু, কলা এবং গাজর রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়ায়। সুতরাং যত কম খাবেন, তত ভালো।
দুধ খেতে হলে ফ্যাট বা চর্বি ছাড়া খেতে হবে। ডিমের হলুদ অংশে কলেস্টোরেল বেশি থাকে, কুসুম বাদ দিয়ে ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। তবে রক্তে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক মাত্রায় থাকলে সপ্তাহে ২-১ দিন কুসুমসহ ডিম খাওয়া যায়।

নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া এবং কোনো বেলার খাবার খাওয়া বাদ না দেওয়া। আজ কম, কাল বেশি এভাবে না খাওয়া।
ধূমপান, মদ পান এবং হোটেলের খাবার পরিপূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে।

ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবে। খাবার নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরের ওজন বেশি থাকলে কমানো বা কম থাকলে বাড়িয়ে স্বাভাবিক করা এবং স্বাভাবিক থাকলে সেটা বজায় রাখতে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের এগুলো অবশ্য পালনীয়। আর যারা ভালো আছেন তারা যদি এভাবে নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে আরও নিরাপদ থাকতে পারবেন।

Comments

comments

Check Also

শ্বেতী কী? কেন হয়? কী করবেন?

ত্বকের একটি অদ্ভুত রোগ হল শ্বেতী। তবে এটি মোটেই ভয়াবহ রোগ নয়! এটির সম্পর্কে অজ্ঞতার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *