Home / স্বাস্থ্য কথা / ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিপদজনক বা ক্ষতিকর খাবার

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিপদজনক বা ক্ষতিকর খাবার

ডায়বেটিস রোগীদের খাবারের দিকে অনেক বেশি সাবধানতার প্রয়োজন। কিছু খাবার খাওয়া ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব খাবার না খাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এমন খাবার খাওয়া উচিৎ। সম্মানিত পাঠক জেনে নিন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিপদজনক বা ক্ষতিকর খাবার গুলি কি কি-
ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষতিকর খাবার

সাদা চালের ভাত
সাদা চালের ভাত টাইপ-২ ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এই চাল প্রক্রিয়াজাত করে সাদা করা হয়। তাছাড়া এই খাবার চিনির মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। তাই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি এড়াতে সাদার পরিবর্তে বাদামী চাল খাওয়া ভাল এতে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর কতটুকু ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যকর তা জানতে পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হোন।

চিনিযুক্ত রিফাইন্ড সিরিয়াল
চিনিযুক্ত দানাদার শস্য জাতীয় খাবারগুলো ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের এড়িয়ে চলাই ভালো। এছাড়াও ইনস্ট্যান্ট ধরণের স্বাস্থ্যকর ওটমিলও ডায়াবিটিস রোগীদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রিফাইন্ড করা সাদা ময়দার তৈরি খাবার
সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি যেকোন খাবার ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভাল নয়। কারণ এই খাবার গুলো দেহের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রনে বাধা দিয়ে থাকে তাই ডায়াবেটিক রোগীদের এই সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার না খাওয়াই ভাল।

চর্বিযুক্ত মাংস
চর্বিযুক্ত মাংসে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত ফ্যাট রয়েছে, যা রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীরা হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকেন। তাই এর বদলে প্রোটিনসমৃদ্ধ চর্বি বিহীন মাংস, ডাল এবং বাদাম জাতীয় খাবার খাবেন। তাছাড়া মাছ এবং মাছের তেল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী।

পেকেটজাত স্নাকফুড
পেকেটজাত স্নাকফুড খাওয়া একেবারেই বাদ দিতে হবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার (কেক, পেস্তি, জ্যাম, জেলি, মিষ্টি, ঘনীভূত দুধ, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিক, চায়ে চিনি ইত্যাদি) খাওয়া যাবেনা। ক্যালরিবহুল খাবার নির্দেশিত পরিমাণে খেতে হবে।

চাইনিজ খাবার
চাইনিজ খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কারণ চাইনিজ খাবারে রয়েছে অনেক বেশি ফ্যাট, ক্যালরি, সোডিয়াম, কার্বোহাইড্রেট যা দ্রুত দেহের সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। এর বদলে বাড়িতে খাবার বানিয়ে নিন স্বাস্থ্যকরভাবে, যা আপনার রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়াবে না।

বোতলজাত ফলের জুস এবং কোমল পানীয়
বোতলজাত ফলের জুস এবং কোমল পানীয় পান করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এসব জুসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও ক্যালরি যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

মিষ্টি জাতীয় শুকনো ফল
মিষ্টি জাতীয় শুকনো ফলে প্রচুর সুগার এবং এনার্জি থাকে যা রক্তে চিনির পরিমাণ দ্রুত বাড়িয়ে তুলে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের এই সব ফল যেমন কিশমিশ, খেজুর ইত্যাদি না খাওয়াই ভাল।

কলা ও তরমুজ
কলা ও তরমুজের পুষ্টিগুণ ভালো থাকলেও ডায়বেটিস রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। কলা এবং তরমুজের মতো ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি যা রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ায়। তাই এসব খাবারের পরিবর্তে টক জাতীয় ফল বেশি বেশি খান।

ফলের রস
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ফলের রস হুমকি সরূপ। তাই এর বদলে কম সুগার রয়েছে এমন ফলের একটি বা দুটি টুকরো খেতে পারেন।

ডিমের কুসুম
ডিমের হলুদ অংশে কলেস্টোরেল বেশি থাকে, কুসুম বাদ দিয়ে ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। তবে রক্তে কোলেস্টেরল স্বাভাবিক মাত্রায় থাকলে সপ্তাহে ২-১ দিন কুসুমসহ ডিম খাওয়া যায়।

ঘন দুধের তৈরি কোন খাবার
দুধ খাওয়া ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভাল কিন্তু ফ্যাট বা চর্বি দুধ ছাড়া খেতে হবে। কিন্তু কোন খাবার যাতে দুধের পরিমাণ খুব বেশি যেমন মিষ্টি দই, দুধের তৈরি ক্রিম, ঘি, চিজ বা পনির এই খাবার গুলো ডায়াবেটিক রোগীদের না খাওয়াই উত্তম।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই
এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ মারাত্মক খাবার। একটু বেশি পরিমাণ খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন এটিকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

এনার্জি বার এবং ক্যান্ডি
এনার্জি বার এবং ক্যান্ডি বা চকোলেট এ চিনির পরিমান অনেক বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের এটিও এড়িয়ে চলা উচিত। এর বদলে ক্ষুধা লাগলে বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন।

আজকের দিনে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। শুরু থেকেই এ ব্যাধি সম্পর্কে সচেতন না হলে পরবর্তীতে নানা জটিলতায় পড়তে হয়। সাধারণত স্থুলতাই ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। কাজেই ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে স্থুলতা কমানোর বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা বেশি জরুরি।

Comments

comments

Check Also

শ্বেতী কী? কেন হয়? কী করবেন?

ত্বকের একটি অদ্ভুত রোগ হল শ্বেতী। তবে এটি মোটেই ভয়াবহ রোগ নয়! এটির সম্পর্কে অজ্ঞতার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *