Breaking News
Home / স্বাস্থ্য কথা / হার্ট অ্যাটাক সংক্রান্ত কিছু অজানা তথ্য
Heart attack symptom

হার্ট অ্যাটাক সংক্রান্ত কিছু অজানা তথ্য

হার্ট অ্যাটাক নিয়ে অনেকেরই অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সেই কারণেই অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলি আমরা। ঠিকঠাক চিকিৎসা না হলে, কয়েক মিনিটেই মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে হৃদরোগ বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা।

একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত যে মহিলাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি থাকে। তবে এটা অনেকেই জানেন না, যে হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য রয়েছে চিকিৎসাতেও। এরকমই আরও কয়েকটি অজানা তথ্য রয়েছে হৃদরোগ সম্পর্কে।

হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয় অনেকেই ভাবেন হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট একই। কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে মূল তফাত হল, হার্ট অ্যাটাকে হার্টের একটি নির্দিষ্ট অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সেই অংশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হার্টের সমগ্র অংশই কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে মানুষ সংজ্ঞা হারায় এবং তার মধ্যে হৃদস্পদন থাকে না।

মহিলাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা বেশি আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি হতে পারে। বাইরে থেকে কোনও মহিলাকে দেখতে যতই সুস্থ লাগুক, তার মানে এই নয় যে তাঁর আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আর এই সম্ভাবনা পুরুষদের থেকে মহিলাদের মধ্যে বেশি বলে জানা গিয়েছে সমীক্ষায়। এর কারণ, পরিবারকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অধিকাংশ মহিলাই নিজেদের স্বাস্থ্যকে অবহেলা করেন। সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যান না বা ওষুধ খান না।

মহিলাদের হৃদযন্ত্রের সমস্যা সহজে ধরা পড়ে না কেন? কারণ, মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগের লক্ষণ স্পষ্ট দেখা যায় না। পুরুষদের যেমন বুকে ব্যথা, হঠাৎই ঘাম হওয়া এধরনের লক্ষণ দেখা যায়।

কিন্তু মহিলাদের কখন ছোটোখাটো স্ট্রোক হয়ে যায়, তা বোঝাও যায় না। পরে চিকিৎসকের কাছে গেলে তা বোঝা যায়। তাই হাঁটুর ব্যথা থেকে কোমরের ব্যথা, যে কোনওকিছু হতে পারে মহিলাদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। ভুল ডায়গনেসিস সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। যেসব মহিলারা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন, তাঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশেরই আগে থেকে হার্টের কোনও রোগ থাকে না।

৪০-৫০ বছরের মধ্যে মহিলাদের হৃদরোগ বেশি হয় এই বয়সেই হার্টের রোগের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি থাকে। কারণ, এই বয়সেই মহিলারা মেনোপজ়াল স্টেজ পেরিয়ে আসেন, এই বয়সে হরমোন শরীরকে সুরক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং এই বয়সেই মহিলারা সবথেকে বেশি একাকীত্বে ভোগেন। এরপর ৬০ বছর পেরোলে হার্টের রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। সেই সময়টা পুরুষদের জন্যও বিপজ্জনক।

মহিলারা নিজেরাও অনেকাংশে দায়ি বিশেষত আমাদের দেশের মহিলারাই পরিবার, সন্তানের দেখভালে এতটা ব্যস্ত থাকেন, যে নিজেদের শরীরের খেয়াল রাখতে পারেন না। তবে আজকাল তা কিছুটা হলেও বদলাচ্ছে। তাই তরুণ প্রজন্মের মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা কম হবে বলেই আশা করা যায়।

Comments

comments

Check Also

রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি পেলে কী হয়?

রক্তে হিমোগ্লোবিন একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। রক্তে সাধারণত পুরুষদের ক্ষেত্রে ১৮.৫ আর নারীদের ক্ষেত্রে ১৬.৫ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *